বাংলা কবিতার সবচেয়ে বড় অনলাইন আর্কাইভকে সমৃদ্ধ করুন

[নতুন কবিদের প্রতি আহবান :

দয়া করে কবিতার নামের পর আপনার নাম ও যুক্ত করুন। ]

আপনাকে কবিতা ব্লগে স্বাগতম । কবিতা মানুষের মননের কথা বলে। তাই আত্নার উপলব্ধির জন্য কবিতার চর্চা বাড়ানো দরকার । আপনাদের সাহায্য করতে কবিতার এই অনলাইন আর্কাইভের যাত্রা । তবে আমাদের কয়েকজনের জন্য এ কাজ বেশ কঠিন । আপনারা যদি এগিয়ে আসেন আমাদের সাথে তবে আমরা খুব দ্রুত আর্কাইভকে সমৃদ্ধ করতে পারব । আর তা করার জন্য উপরের log in or Register বাটনে click করুন । আপনি একটি page পাবেন, সেখানে Register এ click করুন । তারপর নাম ও মেইল ঠিকানা দিন এবং নিবন্ধন বাটনে Click করুন ।

নিবন্ধনের পর আপনার ই মেইলে একটি বার্তা পাবেন, যেখানে আপনার নাম ও পাসওয়ার্ড দেয়া আছে । তা দিয়ে এই সাইটে log in করুন। সাইটে প্রবেশ করেই password পরিবর্তন করে ফেলুন ।
আপনি এখন এই সাইটের একজন সম্মানীত সদস্য ।

সমৃদ্ধ করুন আপনার আর্কাইভকে আপনার ভাল লাগা কবিতা দিয়ে ।তবে খেয়াল করে আর্কাইভে নাই এমন কবিতা যোগ করবেন ।

আমরা এখন থেকে আপনাদের লেখা ভালমানের কবিতা এখানে প্রকাশ করবো । তবে আমরা মানের প্রশ্নে কোন আপোশ করবো না । আমরা জানি আপনারা ও সেটাই চান । আপনার কবিতা সমন্ধে আমাদের সম্মানিত পাঠকগনের মন্তব্য আপনার কবি মনীষার উত্তরন ঘটাবে বলে আমরা মনে করি । অতএব লিখুন …. নিজের জন্য…. পাঠকের জন্য…..

 


ধন্যবাদান্তে
rashal.com Team

সম্রাটের প্রতি কবিতাগুচ্ছ -সপ্তর্ষি বিশ্বাস

সম্রাটের প্রতি কবিতাগুচ্ছ

সপ্তর্ষি বিশ্বাস

১. হাড়ের বাঁশরিখানি

অভিযান ব্যর্থ হলে ওষধি সৈকত জুড়ে কেবলি পালক –
বাঁশি নেই, বাঁশরিয়া নেই,
স্মৃতি বলতে ফিরে আসা ঢেউ ও ঝিনুকে
ফিরে যাওয়া সম্রাটের শান্ত পদছাপ –

হে সম্রাট, তোমার জাহাজ
ফুটো হলে ধাক্কা লেগে বরফ পাহাড়ে
জীবন বাঁচাতে তুমি স্খলিত সাঁতারে
কবে নিজে ভেসে আসবে এই আঘাটায়?

এই শেষ স্বপ্ন নিয়ে
হাড়ের বাঁশরিখানি
এতাবৎ দেহে ধরে আছি –

২. একা যাত্রী, খালাসি, কাপ্তেন –

যে জাহাজ কোনোদিনই ভিড়বেনা কোনোও বন্দরে
আমি তার একা যাত্রী, খালাসি, কাপ্তেন –

খাদ্য, পানীয় বলতে পিপে ভর্তি নোনাজল –
তিমি আর হাঙ্গরের হাড়,
মদ বলতে বালিকার খোয়া যাওয়া প্রিয় নাকছাবি,
মানচিত্রে ধূ ধূ মেঘ, কম্পাসের কাঁটা
বর্শাফলা’র মতো মৃত্যুমুখী, আর
চক্রবালে জলকন্যা, কাম, হাহাকার –
ফলতঃ জাহাজে আমি অর্বাচীন নোয়াহ্‌’র মতো
গড়িনি চিড়িয়াখানা, জাদুঘর অথবা সমিতি,
সমূহ বন্দরগুলি নোয়াহ্‌’র নামে লিখে দিয়ে
আমি আজ একা যাত্রী, খালাসি, কাপ্তেন –

৩. নিরক্ষর উৎসবের দিন …

হে সম্রাট, যেদিন স্বপ্নে আমি তোমার সমাধি
দেখেছি হিরণ্যগর্ভ জলের অতলে
সেই দিনই রত্নাকর থেকে প্রথম কবিতা লিখে
বাল্মীকির নামে আমি নিয়োজিত মহিমা কীর্তনে
হে সম্রাট, তোমার লেহ্য পেয় প্রতিটি নটীর …
তারা সব ক্ষয়ে গেছে নোনাজলে তবু
লাইটহাউসহেন তুমি এতাবৎ হিংস্র আর স্থির
অনেক জন্ম ধরে ভূত-প্রেত-দেবতা ও যক্ষ রূপ ধরে
আমার অক্ষরবৃত্তে কেন্দ্রহেন আসমুদ্র প্রতিষ্ঠা চেয়েছো –
তোমার কৃপার থেকে রক্ষা পেতে আমি
আমার ধ্বংসের দিকে যেতে যেতে থেমে
এখন স্বপ্নে দেখছি সাজাচ্ছ নিজের হাতে
গানে গল্পে হাড়ে গড়া আমার কফিন –
আমার অক্ষরগুলি পূর্বাপর অধিকারে নিয়ে
দিতে কী সক্ষম তুমি সত্তার পরাহত
সেইসব নিরক্ষর উৎসবের দিন? …

একটি চিঠির খোঁজে!

চতুর্দিকের দৃষ্যপট ক্রমশ ঘোলা হয়ে আসছে,

সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাবার সময় হয়ে এলো বুঝি,

কোথায়ে ডাক পিয়ন, কোথায়ে চিঠি?

পথের ধুলো উড়িয়ে ফিরে আসছে একদল ছেলে পুলে,

কর্ম ব্যাস্ত দিনের শেষে ফিরে আসছে কর্মজীবী মানুষ,

তবুও ডাক পিয়নটার কোন দেখা নেই!

ও কি ছুটি নিয়েছে, যদি তা না হয় তবে কেন আসছে না,

কেন ভাঙ্গছে না মৌনতার দেয়াল,

হাপিত্যেশ করে কাটছে না সময়,

পাখিদের কোলাহলে আমার ধ্যান ভাঙ্গে,

ওরাও ফিরে যাচ্ছে নীড়ে,

তবে কি আজও আসবে না তোমার চিঠি?

 

সেই কবে উত্তর দিয়েছিলে এনেছিলে সপ্নে বিভোর দিন,

তারপর কেটে গেছে কত বিনিদ্র রাত,

গাঢ় অন্ধকারে আমি কত দূর ছুটে গেছি রাতের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে,

তুমি বলেছিলে আমি নিষ্ঠুর-আমি তোমাকে ছাড়া চাঁদের আলোয় জ্যোৎস্না স্নান করি,

তাই আমি চাঁদ দেখাই ছেড়ে দিয়েছি,

অশ্বথ গাছের চুরায় যখন নিসঙ্গ প্যাঁচা ডেকে উঠে,

তখন বুকের পাঁজর ছিঁড়ে বের হয়ে আসা দীর্ঘশ্বাস বাতাসে শিস দিয়ে দূরে হারিয়ে যায়,

রাত চলে যায় আসে নতুন দিন,

নতুন প্রতিক্ষা, তোমার চিঠি হয়ত আজ আসবে!

 

এই তো সেদিনের কথা,

কাঠফাটা রোদে রাস্তার পিচ গলে গলে যাচ্ছিল,

তার মাঝেই আমি ছুটে গেছি পোস্ট অফিসে,

চিঠির খোঁজে,

পোস্ট মাস্টার খুব বিরক্ত হোল,

চিঠি আসে নি,

ভারি হয়ে আসলো আমার নিঃশ্বাস,

জীবনের স্বাদ তিতা হয়ে আসছে,

কত কিছুই না তোমাকে বলার আছে,

ঐ যে পুকুরের ধারে তুমি একটা গোলাপের গাছ লাগিয়েছিলে,

সেই গাছে ফুল ফুটেছে,

সেই ফুলের পাপড়িই তো নীল খামে করে পাঠিয়েছিলাম,

মনে আছে সেই দৈত্য দেহি বট গাছটির কথা?

যার আড়ালে আমরা পড়ন্ত বিকেলের ঘ্রান নিতাম,

সেই গাছ টিও মরে গেছে,

সে দিন আমি অনেক কেঁদেছিলাম,

তুমি জান না,

কত কথাই না জমা হয়ে আছে,

সে দিন নদীর পার ধরে হাঁটছিলাম,

নদীর জলে নিজের ছায়া দেখে তোমার সেকি ভয়!

মনে পরে?

স্মৃতিতে মাতাল হয়ে হাঁটছিলাম সেদিন বাজারের পথ ধরে,

একটু হলেই গাড়ির নিচে পরছিলাম,

অন্ধ বলে গর্জন করে উঠলো গাড়ির চালক!

আমি রাগ করলাম না,

ভাবলাম এখানে তুমি থাকলে কতই না রাগ করতে!

আমি অনেক বদলে গেছি,

স্থবির হয়ে গেছে আমার জীবন,

তুমি আমাকে দেখলে বিপন্ন বিস্ময়ে ফেটে পড়তে!

 

কত কথাই না জমা হয়ে আছে!

তোমার উদ্দাম ভালোবাসার দ্যুতিতে আমি উজ্জ্বল হয়েছিলাম,

মনে পরে সেই দিনের কথা- যে দিন তুমি চলে গিয়েছিলে নীল খামে একটি চিঠি আমার হাতে দিয়ে,

সে দিন পুরো শহরটা কে কেমন ফাঁকা ফাঁকা লেগেছিল!

ভেজা মেঘের ভেলায় করে উড়ে যেতে ইচ্ছে করেছিল দূরে কোথাও,

সব সুখের জলাঞ্জলি দিয়ে শুধু তোমাকেই চেয়েছিলাম!

তুমি তাকিয়ে ছিলে ভেজা চোখ নিয়ে,

নির্বাক, অবিশ্বাসী মন নিয়ে,

আমি তোমাকে আটকাতে পারি নি,

তুমি চলে গেলে রয়ে গেলো একটি নীল খামে ভরা ভালোবাসা,

তুমি লিখেছিলে পৌঁছেই তুমি আমায় চিঠি লিখবে!

কই কত দিন হোল তুমি গিয়েছ,

আজও কি তোমার পথ শেষ হয়নি?

না কি মিলেনি চিঠি লেখার ফুরসত!

লোক মুখে শুনি তুমি নাকি এখন অন্য কারো ঘরণী!

আমি আপন মনে হাসি!

তাই কি হয়!

তুমি লিখেছিলে তুমি থাকবে আমার হয়ে,

তোমার চিঠিতে , তোমার ভালোবাসায়,

সব সপ্নের রঙ ধূসর হতে পারে কিন্তু এই চিঠি!

এটা শুধুই আমার,

না আমাদের!

আমি চিঠি লিখি- প্রতিটা ক্ষণে – মনের আনাচে কানাচে,

চিঠি লিখি সন্তর্পণে,

চিঠি লিখি তোমার তরে,

নীল খামে করে পাঠাই সে চিঠি অজানার উদ্দেশে,

সে চিঠিতে লুকিয়ে থাকে কত অভিমান, ভালোবাসা!

তুমি কি তা জান না,

তবুও চিঠির উত্তর কেন আজও মেলে না,

একদিন ডাকপিয়ন আসবে আমার দুয়ারে,

নীল খাম খুলে দেখব তোমার চিঠি,

সে আমার সমাধি পাবে পূর্ণতা,

চিঠির আড়ালে লুকাবে আমার অতৃপ্ত আত্মা!

শারদীয় প্রার্থনা…… পিএস কাজল

মিথ্যার গা সত্যের আবরনে ঢাকা।

আমি তুমি আমরা এই সমাজ সভ্যতা,
দেশ-কাল-ইতিহাস সবার মুখে মুখোশ;
কুৎসিত বিভৎস চামড়া আজ
স্বচ্ছ স্ফটিক পর্দায় ঘেরা ।

মা-ভবানীর সন্তান আর দুধে-ভাতে নেই।
শাকান্ন জোটে না প্রতিবেলায়–প্রতিদিন–
কারো কারো বহুদিন–কেউ কেউ চলে যায়
চিরতরে জানিয়ে বিদায়–শুষ্ক ঠোঁটে–বুভুক্ষ পেটে;
চির নিদ্রাহীন কিছু মানুষ ঘুরে বেড়ায়
এপাড়া ওপাড়া। শেষ পথে তোমার আপন–
আদুরে ছবি উমা–পেটের দায়ে পতিতা।

চলছে শরৎকাল–ভাসছে শাদা মেঘ।

আজ মহাষষ্ঠী–অকাল বোধন তোমার,
বোধহীন পুরুত-মোল্লার দরবার ছেড়ে,
নবাবী কায়দায় গড়া কৈলাশী খাবার ফেলে
একটি বার এসো তোমার প্রতিবেশীর দুয়ারে–
সভ্যতার অনাদরে সন্তানের কাছে…

অজস্র মহীষাসুর-দুর্গ গড়েছে ব্যারাক,
কামানের ধুয়ায় নষ্ট পৃথিবী,
জরাজীর্ন ধূপও উপেক্ষিত–
ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে সভ্যতা।

আবার এসো…
বিশ্ববলে আবির্ভূত হও–কোন পূজার মন্ডপে নয়,
পুরুত-মোল্লার দরবারে নয়–মানুষের দেবী রূপে–
মানুষের কাছে ।

আধুনিক অসুরকে বধ করো,
এসো ! তোমার সন্তানকে রক্ষা করো ।

সড়ক দ্বীপের নিঝুম স্থাপত্য ….পিএস কাজল

আমি দেখলাম
তাজিং ঢং বিজয়ের শীর্ষ দেশে,
ঝঞ্জাতাড়িত ক্লান্ত এক সৃষ্টিকে,
যে কাঁটা-লতায় বাঁধা পড়ে আছে-
বিশালদেহের এক শৈল খন্ডের সাথে।
চোখের কোনে উজ্জ্বল আভা-
আঘাতের তোড়ে ম্লান হয়নি-
ভাগ্যের বিড়ম্ববনায় কুঁকড়ে উঠেনি-রক্তাক্ত চুল;
শুধু মরা নদীর মত,
শুষ্ক রক্তের আলপনায় ঘেরা প্রতিটি ক্ষত।

তুমি কী অন্যায় করেছিলে?
কোন বিপ্লব? কোন সংগ্রাম? কোন ধ্বংস?
এ কি তারই শাস্তি?
কথা কও-কথা কও, হে- শৈল খন্ডে বন্দি বীর,
চোখের জ্যোতির মত মুখের বানী ছড়াও চারপাশে;
কথা কও- কথা কও,
পথ-বিড়ম্বিত এ অচেনা যুবকের সাথে ।

নিষিদ্ধ প্রনয়……পিএস কাজল

দরকার নেই কোন কর্কশ বাহুবন্ধন,
কোন লোমশ প্রাণীর প্রণয় সংসক্তি;
দরকার নেই জয় পরাজয় উত্থান পতনে।
একেলা থাকো; অপর তোমাকে নিয়ে,
যে তোমাকে প্রতিবিম্বিত করে, উপস্থিত করে।

তুমি দাসী, সে প্রভু নয়।
সে দাসী তুমি, তুমি প্রভু নও।

তোমরা যুগল বন্দি; কপোত কপোতি নও,
সে তোমার, তুমি তার, তোমরা তোমাদের।
পুরুষ সভ্যতার বাইরে তোমরা
ক্লান্তিহীন শোষনহীন প্রভুহীন
ধূধূ মরুবক্ষে, সমুদ্রের গর্জনপ্রান্তে
স্থিরচিত্রের সজল পটে আঁকা
একই দেহের দু’টি স্বাধীন প্রাণী।
একই যুগলের দু’টি স্বাধীন মানবী।

আমার বিশ্বাস….. পিএস কাজল

আমি অবিশ্বাসী নই, বিশ্বাস করি
এক পশলা বৃষ্টির পর রংধনু
গ্রীস্মে,বামার নৃত্য,বৈশাখের দাপাদাপি
বর্ষার যৌবনে পদ্মার বুকের উত্তাল ঢেউ,
তীর ভাঙার অবিরাম শব্দ,শুভ্র ফেনা রাশি,
অসহায় মানুষের আর্তনাদ,শিশুর ক্রন্দন ধ্বনি,
শুষ্ক মাতৃস্তনে অশ্রুসজল মা, বিশ্বাস করি
আমি অবিশ্বাসী নই,বিশ্বাস করি।

সিডর আয়লায় আহত হাজারো মুখচ্ছবি,
উপকূলের কূল ঘেঁষে লাশের মিছিল,
অনাহারী মানুষের চিৎকার কানড়বা,
গগনবিদারী শোকধ্বনী,যা কেউ শুনে নি।
একমাত্র শিশু,নয়নের পুত্তলি, নাড়িছেড়া ধনের
একমুঠো খাবার,আশ্রয়- পানির জন্য,
তোমাদের ট্যাপের পাশে,চালের গুদামে,
সরাইখানায়,গাছের ছায়ায়,নির্জন রাস্তায়
অসহায় মায়ের পতিতাবৃত্তি, বিশ্বাস করি
আাম অবিশ্বাসী নই,বিশ্বাস করি।
তোমার মর্মর পাথুরে-প্রাসাদে অলক্ষিতিলক;
আমার ভাগ্যরেখার বাঁকা দাগে নয়,
বিরহ-মিলন কষ্ট-ব্যথার প্রতিফলনে,আমি;
আমার সুখ সকল দৃষ্টি,আমার ভাগ্য- আমিই নিয়তি।
ভোরের শিশির পাখির মুক্ত কোলাহল
মধ্যাহ্নের দীপ্ত অরুন,গোধূলীর ধুলাহল
চাঁদোয়া আলোয় প্রিয়ার অধর চুম্বন
অমাবস্যার আঁধারে সোডিয়ামের ঝলকানি
শীতের শিশির,শরতের ঘাসফুল, বিশ্বাস করি
আমি অবিশ্বাসী নই,বিশ্বাস করি।
মসজিদ মন্দির গির্জা সিনেগগ নয়
কোন নক্শাকারী,পতনকারী,অত্যাচারীকে নয়,
কোন নেতা,বিজেতা,ঈশ্বর-বাহিনীকে নয়,
কোন হিংস্র জানোয়ার,অশান্ত পায়রাকে নয়,
কোন রহস্যময় প্রথা,বিশ্বাসকে নয়…
আমি বিশ্বাস করি উলঙ্গ শিশুকে
পলিমাটির ঘ্রানকে,অনর্থক বৈচিত্রময়
একপশলা ঝিলিককে,গাঁধা ফুলের গন্ধকে,
কারো করুনায় আমি নই,কোন করুনাময়কে নয়,
আমি বিশ্বাস করি,ঝিনুকের হৃদয়ে বিষরসে সৃষ্ট
এক রত্তি স্বচ্ছ মুক্ত। আমি বিশ্বাস করি
অনর্থক জীবনে নিরর্থক পথ চলার মাঝে ব্যথার
সার্থক আঘাত; আঘাত উত্থিত অমূল্য রতন মাঝে
অবিনাশী সুখের নিরন্তর সন্ধান।

ভাবী-মন্দির
২৭, অক্টোবর, ২০১১

জয়তু বিদ্যুৎ বিভ্রাট !

নিষিদ্ধ আদিম আঁধারেরা যারা
মরে গেছে সূর্যাস্তের পর
সহস্র মেকি সূর্যের কুৎসিত আলোয়,যারা
আর ফিরবেনা কোন ঘোরলাগা অমাবস্যায়,
ও খুনের বিচার দাবিতে এক দেহ
ক্ষোভের মশাল জ্বেলে হয়ত অনশনে
যাবে আঠারোটা উদ্বাস্তু জোনাকি,
বীভৎস আলোর নগরীতে ক্ষীণালোকা
ওদের নিছকই ব্যর্থ প্রতিবাদ;
নিহতের মিছিল নিয়ত বাড়বে কেবল। তবুও
এই মৃত্যুর হুলিয়ায় কিছু ফেরারী আঁধার
থাকে বিলুপ্ত অমাবস্যায় বিভোর,
বিদ্যুতের অসময় বিভ্রাটে বেরোয়
গোপন এক অভিসারে; আজো তাই এই
আঁধার-দ্বেষী আলোক পূজোর দেশে
কিছু কিছু মোনাফেক প্রায়
নিঃশব্দে প্রায়শ বলে,

জয়তু আদিম আঁধার !

জয়তু বিদ্যুৎ বিভ্রাট !